ফারুক মিয়ার জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা

January 23, 2025
ফারুক মিয়ার জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা
একজন স্বপ্নবাজ মানুষ ফারুক মিয়া। সুনামগঞ্জ জেলার মোহনপুর ইউনিয়নের রাশনগর গ্রামের ৫২ বছর বয়সী বিদেশ ফেরত এই কমী জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন কৃষিকাজ করে। পরিবারের সচ্ছলতা আনার জন্য সিদ্ধান্ত নেন বিদেশ যাওয়ার। গন্তব্য মালয়েশিয়ায়। একটি  কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে ৭ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মাত্র একবার ছুটিতে দেশে আসতে পেরেছিলেন।
বিদেশে থাকাকালীন তার মনোযোগ সবসময়ই ছিল পরিবার এবং ভবিষ্যতের দিকে। স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে কৃষিকাজের পাশাপাশি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন। নিজের দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন কৃষি প্রকল্প। যেখানে মৎস্য চাষ, আম ও সুপারি বাগান, লেবু গাছসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির চাষ করেন। সাথে একটি ছোট গরুর খামারও রয়েছে। এরইমধ্যে কিছু ঋণও করেন তিনি। এসব কৃষি প্রকল্প হাতে নিলেও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং অর্থ সংকট স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দেখা দেয়। 
এ সময় ফারুক মিয়া তার এলাকাবাসীর মাধ্যমে রেইজ প্রকল্পের সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি একবুক স্বপ্ন নিয়ে দেরী না করে একদিন সুনামগঞ্জ শহরে অবস্থিত ওয়েলফেয়ার  সেন্টারে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি প্রকল্পের ডাটাবেইজে নাম নিবন্ধন  করেন। তাকে সেন্টার হতে ওরিয়েন্টেশন ও কাউন্সেলিং গ্রহণ করেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসে রেফার করা হলে সেখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণ তার জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক হয়। 
ওয়েলফেয়ার  সেন্টার থেকে তিনি ১৩,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। এই অর্থ দিয়ে তিনি তার পুকুরে ১,০০০ মাছের পোনা ছাড়েন। এই উদ্যোগ তার প্রজেক্টের প্রথম ধাপে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফারুক মিয়া আত্মবিশ্বাসী যে, তার পুকুরের মাছ বিক্রির মাধ্যমে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লাভ করতে পারবেন।
ফারুক মিয়া তার জীবনের এই পরিবর্তনের জন্য ওয়েলফেয়ার সেন্টারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ‘প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তা আমার জীবনে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এটি আমাকে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করেছে এবং আমার পরিবারের জন্য একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে।’ 
এই গল্প শুধুমাত্র একজন মানুষের সাফল্যের নয়, বরং এটি প্রমাণ করে সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সহায়তা একজন মানুষের জীবন কিভাবে বদলে দিতে পারে। 
 

Other News in সিলেট বিভাগ