ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা ধরণের কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, যুদ্ধাবস্থা (যেমন: লিবিয়া, ইরাক, সুদান ও লেবানন সংকট) এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগকালীন সময়ে (যেমন: কোভিড- ১৯) কর্মীর কল্যাণে নানা ধরণের কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে এ বোর্ড।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রবাস ফেরত অভিবাসী কর্মীদের পুন:একত্রীকরণে (রি-ইন্টিগ্রেশন) “Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE): Reintegration of Returning Migrants” শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়; যা বাস্তবায়ন করছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা প্রদান করছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত রি-ইন্টিগ্রেশন সংক্রান্ত এই প্রকল্পটি (কর্মী সংখ্যা বিবেচনায়) বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সাল হতে বিদেশ ফেরত ০২ লক্ষ অভিবাসী কর্মীকে নিবন্ধন, ওরিয়েন্টেশন এবং কাউন্সিলিং প্রদানপূর্বক প্রত্যেক কর্মীকে এককালীন ১৩৫০০/- টাকা করে প্রণোদনা (ক্যাশ ইনসেনটিভ) প্রদান করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে 30টি জেলায় ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
রেফারেল সেবার আওতায় কর্মীর আত্মকর্মসংস্থানের নিমিত্ত তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আর্থিক কর্মসূচী পরিচালনা করছে সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রকল্পের উদ্যোগে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর্মীদের সেবা/সহায়তা প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মূলত কর্মীদের আত্মকর্মসংস্থানের নিমিত্ত উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্তকরন এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এছাড়া যেসব কর্মী দক্ষতা অর্জন করে দেশে ফেরত এসেছেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সনদ নেই, তাঁদেরকে Recognition of Prior Learning (RPL) এর আওতায় জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষতা সনদ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। যা তাঁদের দেশে-বিদেশে চাকুরি প্রাপ্তিতে সহায়ক হবে।
নিবন্ধিত কর্মীদের one to one followup এর মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হয়। সে আলোকে রেফারেল সেবার মাধ্যমে কর্মীদের পুন:একত্রীকরণ তথা পুন:বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।