সংকল্প ও শ্রমে নির্মিত রিপন মিয়ার জীবনের গল্প

January 23, 2025
সংকল্প ও শ্রমে নির্মিত রিপন মিয়ার জীবনের গল্প
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নের সংগ্রামসুমিল গ্রামের মো. আব্দুলের ছেলে রিপন মিয়া। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ। জীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে সফলতার পথে এগিয়ে গেছেন। তার গল্প প্রতিটি প্রবাস ফেরত অভিবাসীর জন্য একেকটি উদাহরণ।
রিপন মিয়া জীবনের শুরুতে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ করতেন। জীবনের উন্নতি এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় এবং সঞ্চিত অর্থের মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ওমানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তিনি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু করেন। 
সেখানে প্রথমদিকে তিনি মাসে ১৮ হাজার টাকা বেতন পেতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা বাড়লে বেতন ৩৫ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। বিদেশে  প্রায় ৮ বছর ধরে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেন। এ সময়ে তিনি তার ঋণ পরিশোধ করেন এবং সঞ্চয় গড়ে তোলেন। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবশেষে ২০১৮  সালে জানুয়ারি মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর রিপন মিয়া একটি গরুর ফার্ম স্থাপন করেন এবং পাশাপাশি কৃষিকাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি ওয়েলফেয়ার সেন্টারের একজন ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে জানতে পারেন, প্রবাস ফেরত অভিবাসীদের জন্য সরকার সহায়তা করছে। এই তথ্য জানার পর তিনি গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করেন। সেখানে স্পট নিবন্ধনের জন্য সেন্টার হতে আসা কর্মকর্তাদের কাছে বিস্তারিত জানেন। পরে একদিন টাঙ্গাইল ওয়েলফেয়ার সেন্টারে গিয়ে নাম নিবন্ধন করেন।   
সেন্টার হতে কাউন্সেলিং গ্রহণের পর তিনি গবাদি পশু পালনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার  আগ্রহের ভিত্তিতে মধুপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তিনি ৭ দিনের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষ হলে তিনি প্রকল্প থেকে প্রণোদনার ১৩,৫০০ টাকা পান। এই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি একটি সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেন। উক্ত টাকা হতে ৮ হাজার টাকা দিয়ে তিনটি ছাগলের বাচ্চা ক্রয় করেন এবং বাকী টাকা দিয়ে গরুর খাদ্য কেনেন। 
বর্তমানে তার ফার্মে তিনটি ছাগল থেকে আটটি ছাগলে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ছাগল বিক্রি করে তিনি ২৬,০০০ টাকা আয় করেন। এই অর্থ তিনি ফার্ম মেরামত এবং খাদ্য ক্রয়ের কাজে ব্যয় করেন। বর্তমানে তার ফার্মে চারটি ছাগল রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলো বিক্রি করে তিনি বিদেশি গরু কেনার পরিকল্পনা করছেন।
রিপন মিয়া প্রণোদনা এবং সঞ্চিত অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে ফার্মের উৎপাদন বাড়িয়েছেন। তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, পরিকল্পিত প্রচেষ্টা এবং সুষম অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একজন প্রত্যাগত অভিবাসী নিজের ও পরিবারের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।