আবু তাহেরের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

February 11, 2025
আবু তাহেরের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
মো. আবু তাহের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণখান মিয়া পাড়া মসজিদ রোড এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একবুক স্বপ্ন তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। ২০০৮ সালে তিনি বৈধভাবে কাজ নিয়ে সংযুক্ত আরব-আমিরাতের দুবাইয়ে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘসময় অবস্থান করেন। এ সময় তিনি দুবাইয়ের বেশ কয়েকটি হোটেল-রেস্টুরেন্টে চাকরি করেন। এ সময় তিনি ভালোই রোজগার করতেন। পরিবারের নিয়মিত টাকা পাঠানোর পাশাাপাশি কিছু সঞ্চয়ও করতেন। 
কিন্তু ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী হঠাৎ মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে কোম্পানিগুলো কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া শুরু করে। এর মধ্যে আবু তাহেরও চাকরিচ্যুত হন। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ভবিষ্যত চিন্তা করে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। সঞ্চয়ের যে অল্পস্বল্প কিছু টাকা ছিলো তা দিয়ে তিনি  স্টেশনারি দোকান দেন। যেখানে ছিলো ফটোকপি মেশিন, শিক্ষাসামগ্রী, ফুড আইটেম ইত্যাদি। কিন্তু পুঁজি কম থাকায় চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ভ্যারাইটিজ এ ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারছিলেন না। প্রয়োজনীয় সব মালামাল ক্রয় করতে না পারায় ভালো মতো ব্যবসাটা হচ্ছিল না।এরই মধ্যে আবু তাহের জানতে পারেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদানসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করছে। এ তথ্য পেয়ে তিনি একদিন ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনের খিলক্ষেত এলাকার লঞ্জনীপাড়া ওয়েলফেয়ার সেন্টারে যান। সেখানে এই সেবা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানেন। আবু তাহের সেখানে সঠিক কাগজপত্র জমা দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করেন। পরবর্তীতে  সেন্টারে কাউন্সেলিং গ্রহণের সময় ব্যবসার সমস্যার কথা তুলে ধরেন। কাউন্সেলর তাকে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য লোন পেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে যোগাযোগ করিয়ে দেন এবং প্রকল্প হতে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়ে তিনি ব্যবসার মালামাল ক্রয় করেন। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকেও ৩ লাখ টাকার আর্থিক ঋণ সহায়তা পান। ওই টাকার পুরোটাই তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজে বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে আর্থিক প্রণোদনা ও লোনের টাকা দিয়ে ব্যবসা অনেকটা বড় হয়েছে। আগের চেয়ে ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন তিনি।তাহের জানান, ‘আমার মতো বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রবাস ফেরত অভিবাসীদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওয়েলফেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’