রেইজ প্রকল্প দিয়েছে আমার নতুন জীবন

January 23, 2025
রেইজ প্রকল্প দিয়েছে আমার নতুন জীবন
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের ৪৩ বছর বয়সী সারুফার জীবন যেন এক সংগ্রামের কাব্য। তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারে নেমে এসেছিল এক চরম অর্থনৈতিক সংকট। খুব অল্প বয়সেই তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল বিদেশের মাটিতে। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি মরিশাসে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ শুরু করেন। দুই বছর পর ওই কোম্পানি তাকে ওমানে স্থানান্তর করে।
কিছুদিন সেখানে কাজ করার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের পরও জীবনের সংকট আর দুঃখ দূর হয়নি। তাই পরিবার চালানোর তাগিদে তিনি আবারও বিদেশে পাড়ি জমান, এবার তাঁর অন্য গন্তব্য জর্ডান। বিদেশের আয়-রোজগারেই চলতে থাকে তার পরিবার। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তাকে ফিরতে হয় দেশে।
বিদেশে উপার্জিত সামান্য পুঁজি দিয়ে দেশে শুরু হয় তার দিন বদলের লড়াই। একটি বিউটি পার্লার খোলেন। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পার্লারটি মুখ থুবড়ে পড়ে। জীবনের দুগম পথ পাড়ি দেওয়া যেন তাঁর জন্য আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ঠিক এমন সময়, এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তিনি রেইজ প্রকল্পের কথা জানতে পারেন। এক বুক আশা নিয়ে তিনি বরিশাল ওয়েলফেয়ার সেন্টারে যান। গিয়ে তাকে হতাশ হতে হয়নি। নাম নিবন্ধন করেন প্রকল্পের উপকারভোগীর তালিকায়। রেইজ প্রকল্প তাঁকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়। সেই সঙ্গে তিনি প্রকল্প থেকে ১৩,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান।
সারুফা এই সহায়তা কাজে লাগিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেন। তিনি ৬০টি দেশি হাঁস-মুরগী কিনে একটি ছোট পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করেন। অবশিষ্ট অর্থ তার পার্লার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। প্রশিক্ষণের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তিনি এখন নিজেই এক ধরনের তেল উদ্ভাবন করেন এবং তা তার পার্লারে ব্যবহার করছেন। তার সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। আজ সারুফা একজন সফল উদ্যোক্তা। পার্লার এবং পোল্ট্রি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি তার তিন সদস্যের পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতার সাথে চালিয়ে নিতে পারছেন। তার জীবনে ফিরে এসেছে স্থিতি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আরও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তিনি।
সারুফা আবেগঘন কন্ঠে বলেন, ‘রেইজ’ প্রকল্প আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে। যখন ভাবতে শুরু করেছিলাম আমার জীবনে আর ভালো কিছু সম্ভব নয়, তখন তারা আমাকে দেখিয়েছে, কিভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। তাদের কাউন্সেলিং, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা আমাকে শুধু ব্যবসা শিখিয়েই দেয়নি বরং নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে।’ 
সারুফার এই সফলতার গল্পের পেছনে রয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ‘রেইজ’ প্রকল্পের একটি বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম। সঠিক প্রশিক্ষণ, সময়োপযোগী আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক সাহস একজন মানুষের জীবনকে কীভাবে বদলে দিতে পারে, তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হলেন সারুফা। তিনি তার সমাজের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা নাম। সারুফা প্রমাণ করেছেন, সংকট যতই গভীর হোক, ইচ্ছেশক্তি আর যথাযথ সহায়তা পেলে জীবনে সফলতা আসবেই।