পিরোজপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের ৪০ বছরের নাসরিন এক সংগ্রামী নারী। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। ছোট ছেলেকে নিয়ে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই ছিল দুরূহ। এ অবস্থায় দেশে উপার্জনের পথ না পেয়ে তিনি দেশের বাইরে কাজের সন্ধানে যান। মরিশাসে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করার সুযোগ পান তিনি।
তবে তাঁর এই কাজ সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। সেদেশে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন- জন্ডিসে আক্রান্ত হন। একইসঙ্গে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে চাকরির মেয়াদ শেষ হলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। দেশে ফিরে শারীরিক এবং মানিসকভাবে ভেঙে পড়া নাসরিন টানা চার-পাঁচ বছর বেকার ছিলেন। অর্থের অভাবে জীবন চলছিল অত্যন্ত কষ্টে।
জীবনের চরম এই বাস্তবতায় তিনি পরিচিত জনের কাছে থেকে রেইজ প্রকল্পের মাইকিংয়ের কথা জানতে পারেন। তিনি চলে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে। ওই সময় রেইজ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে স্পট রেজিস্ট্র্রেশন চলছিল। সেখানে নিবন্ধনের পর, নাসরিনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) সেলাই মেশিন পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, প্রকল্প থেকে তিনি ১৩,৫০০ টাকা প্রণোদনা পান। এই অর্থ দিয়ে তিনি একটি সেলাই মেশিন কিনে নিজের জীবনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেন।
আজ নাসরিন নিজের বাড়িতে বসেই জামা-কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। তার নিজের আয়েই তিনি তার ছেলে এবং নিজের সব প্রয়োজন মেটাতে পারছেন। তার জীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি, মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস।
নাসরিন বলেন, ‘একসময় মনে হয়েছিল, আমার জীবন আর কোনদিন ঠিক হবে না। আমার সন্তানকে ঠিকভাবে খাওয়াতেও পারবো না। কিন্তু রেইজ আমার জীবনে সেই দুঃসহ জীবন থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ এবং সহায়তায় আমি আজ স্বাবলম্বী। এখন আমি আমার সন্তানকে ঠিকভাবে দেখাশোনা করতে পারছি এবং সম্মানের সাথে বাঁচতে পারছি।’
নাসরিনের এই গল্প রেইজ প্রকল্পের প্রভাব এবং কার্যক্রেমের এক জীবন্ত উদাহরণ। সঠিক সময়ে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক উৎসাহ একজন মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। নাসরিন আজ তার সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা, তিনি প্রমাণ করেছেন সংকট যত বড়ই হোক, ইচ্ছেশক্তি আর সঠিক সহায়তা থাকলে জীবনে সবকিছুই সম্ভব।