পতিত পুকুরে মৎস্য চাষ করে ঘুরে দাঁড়ায় রেশাদ

January 23, 2025
পতিত পুকুরে মৎস্য চাষ করে ঘুরে দাঁড়ায় রেশাদ
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ৩৫ বছর বয়সী রেশাদ বিশ্বাস। তিনি একজন বিদেশ ফেরত অভিবাসী। চার সদস্যের পরিবারের নিয়ে তিনি অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন। এই  জীবন থেকে মুক্তি পেতে তিনি শ্রমিক ভিসায় লেবাননে যান। 
লেবাননে পাঁচ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে রেশাদ তাঁর পরিবারের জন্য টাকা পাঠাতেন। তবে, করোনা মহামারির কারণে তার জীবনে নেমে আসে কঠিন বিপর্যয়। বিশ্বব্যাপী ডলার সংকটের কারণে লেবাননে তার বেতন লেবানিজ মুদ্রায় দেওয়া শুরু হয়, যা বাংলাদেশে টাকায় কমে যায়। দেশে ফিরে আসা ছাড়া তার আর কোনো উপায় ছিল না।
২০২১ সালে দেশে ফিরে আসার পর শুরু হয় তার সবচেয়ে কঠিন সময়। টানা দুই বছর তিনি কর্মহীন ছিলেন। কোনো আয় না থাকায় পরিবারের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। হতাশা আর অনিশ্চয়তায় তিনি ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিলেন।
ঠিক তখনই রেশাদ শুনলেন রেইজ প্রকল্পের কথা। আশার একটি শেষ আলো খুঁজতে তিনি প্রকল্পে নিবন্ধন করেন। ওয়েলফেয়ার সেন্টার হতে  তাকে মাছ চাষের প্রশিক্ষণের জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের মাধ্যমে পাঠায়। পাশাপাশি, প্রকল্প থেকে তিনি ১৩,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান।
প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে রেশাদ তার নিজের পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার পরিশ্রমের ফল আসতে শুরু করে। আজ রেশাদ তার মাছ চাষ থেকে মাসে ২০,০০০ টাকার বেশি আয় করেন। একসময় যে পুকুরটি পতিত ছিল, আজ সেটিই তার পরিবারের আয়ের উৎস। 
রেশাদ তার অতীতের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘লেবানন থেকে ফিরে যখন কিছুই ছিল না, তখন ভেবেছিলাম আমার জীবনে আর কিছুই ভালো হবে না। কিন্তু রেইজ আমাকে শুধু সহায়তাই দেয়নি, সাহস আর দিক--নির্দেশনাও দিয়েছে। আজ আমি পরিবারকে মর্যাদার সঙ্গে চালাতে পারছি।’ 
রেশাদ বিশ্বাসের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রেইজ প্রকল্প কীভাবে একটি জীবনকে বদলে দিতে পারে। সময়মতো সঠিক প্রশিক্ষণ এবং মানসিক উৎসাহ একজন মানুষকে হতাশার অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। রেইজ প্রকল্প আমাদের শেখায়, ছোট সহায়তাগুলোই জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে পারে।